Thursday, March 8, 2018
mdkabir823: আব্দুল্লাহ
mdkabir823: আব্দুল্লাহ: ইব্রাহীম বিন মোঃ কবির,(আব্দুল্লাহ) জন্ম ১১এপ্রিল ২০১৫ রোজ বুধবার। পিতা :মোঃ কবির হোসেন। গ্রাম :ইউ, এন,সি নগর, পোস্ট :মতিনগর, থা...
Saturday, March 3, 2018
ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচন-২০১৮
ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচন-২০১৮
================
১)সীমনা:-বিজেপি(বিশ্বকেতু দেব্বর্মা-১৫৯৭৭)।
২)মোহনপুর:-বিজেপি(রতনলাল নাথ-২২৫১৬)।
৩)বামুটিয়া:-বিজেপি(কৃষ্ণধন দাস-২০০১৪)।
৪)বড়জলা:- বিজেপি(দিলীপ কুমার দাস -২২০৫২)
৫)খয়েরপুর:- বিজেপি(রতন চক্রবর্তী -২৫৪৯৬)
৬)আগরতলা:-বিজেপি (সুদীপ রায় বর্মণ-২৫২৩৪)
৭)রামনগর:- বিজেপি(সুরজিত দত্ত -২১০৯২)
৮)টাউন বরদোয়ালী:-বিজেপি (আসিস কুমার সাহা -২৪২৯৩)
৯)বনমালীপুর:-বিজেপি (বিপ্লব কুমার দেব-২১৭৫৫)
১০)মজলিশপুর:-বিজেপি ( সুশান্ত চৌধুরী -২৩২৪৯)
১১)মান্দাই:-আই.পি.এফ.টি (ধীরেন্দ্র দেব্বর্মা-২১৩৮১)
১২)টাকারজলা:-আই.পি.এফ.টি (নরেন্দ্রচন্দ্র দেব্বর্মা-২২০৫৬)
১৩)প্রতাপগড়:-বিজেপি (রেবতীমোহন দাস-২৫৮৩৪)
১৪)বাঁধারঘাট:-বিজেপি (দীলিপ সরকার-২৮৫৬১)
১৫)কমলাসাগর:-সি.পি.আই.এম (নারায়ণ চৌধুরী-১৮৮৪৭)
১৬)বিশালগড়:-সি.পি.আই.এম (ভানুলাল সাহা-২১২৫৪)
১৭)গোলাঘাটি:-বিজেপি (বীরেন্দ্রকিশোর দেব্বর্মা-১৯২২৮)
১৮)সূর্য্যমণিনগর:-বিজেপি (রামপ্রসাদ পাল-২৪৮৭৪)
১৯)চড়িলাম:-নির্বাচন স্থগিত
২০)বক্সনগর:-সি.পি.আই.এম (শহীদ চৌধুরী-১৯৮৬২)
২১)নলছড়:-বিজেপি (শুভাশিস চন্দ্র দাস-১৯৮৬২)
২২)সোনামুড়া:-সিপিআইএম (শ্যামল চক্রবর্তী -14578)
২৩)ধনপুর:-সিপিআইএম (মানিক সরকার -১৪০২৭)
২৪)রামচন্দ্রঘাট:-আই.পি.এফ.টি (প্রশান্ত দেব্বর্মা-১৯৪৩৯)
২৫)খোয়াই:-সি.পি.আই.এম (নির্মল বিশ্বাস-২০৬২৯)
২৬)আশারামবাড়ি:-আই.পি.এফ.টি (মেবারকুমার জমাতিয়া-১৯১৮৮)
২৭)কল্যাণপুর-প্রমোদনগর:-বিজেপি (পিণাকীদাস চৌধুরী-২০২৯৩)
২৮)তেলিয়ামুড়া:- বিজেপি (কল্যাণী রায় -২২৪১৪)
২৯)কৃষ্ণপুর:- বিজেপি (অতুল দেব্বর্মা-১৬৭৩০)
৩০)বাগমা:-বিজেপি (রামপদ জমাতিয়া-২৪০৭৪)
৩১)রাধাকিশোরপুর:-বিজেপি ( প্রসেনজিৎ সিংহ রায় -২২৪১৪)
৩২)মাতাবাড়ি:- বিজেপি (বিপ্লব কুমার ঘোষ -২৩০৬৯)
৩৩)শালগড়া:-সি.পি.আই.এম (রতন কুমার ভৌমিক-২৪৮৩৫)
৩৪)রাজনগর:-সি.পি.আই.এম (সুধন দাস-২২০০৪)
৩৫)বিলোনিয়া:-বিজেপি (অরুণচন্দ্র ভৌমিক-১৯৩০৭)
৩৬)শান্তিরবাজার:-বিজেপি (প্রমোদ রিয়াং-২১৭০১)
৩৭)ঋষ্যমুখ:-সি.পি.আই.এম (বাদল চৌধুরী-২২৬৭৩)
৩৮)জোলাইবাড়ি:-সি.পি.আই.এম (যশোবীর ত্রিপুরা-২১১৬০)
৩৯)মনু:-সি.পি.আই.এম ( প্রভাত চৌধুরী -১৯৪৩২)
৪০)সাব্রুম:-বিজেপি (শঙ্কর রায়-২১০৫৯)
৪১)অম্পিনগর:-আই.পি.এফ.টি ( সিন্ধু চন্দ্র জমাতিয়া -১৮২০২)
৪২)অমরপুর:-বিজেপি (রনজিৎ দাস -১৬৫৫৫)
৪৩)করবুক:-বিজেপি (বুর্বমোহন ত্রিপুরা-১৫৬২২)
৪৪)রাইমাভ্যলী:-আই.পি.এফ.টি (ধনঞ্জয় ত্রিপুরা-১৮৬৭৩)
৪৫)কমলপুর:-বিজেপি (মনোজ কান্তি দেব-২০১৬৫)
৪৬)সুরমা:-বিজেপি (আশিস দাস-২০৭৬৭)
৪৭)আমবাসা:-বিজেপি (পরিমল দেব্বর্মা-২০৮৪২)
৪৮)করমছড়া:- বিজেপি (দিবাচন্দ্র রাঙখল-১৯৩৯৭)
৪৯)ছামনু:-বিজেপি (শম্ভুলাল চাকমা-১৮২৯০)
৫০)পাবিয়াছড়া:-বিজেপি (ভগবান দাস-২২৮১৫)
৫১)ফটিকরায়:-বিজেপি (সুধাংশু দাস-১৯৫১২)
৫২)চন্ডীপুর:-সি.পি.আই.এম (তপন চক্রবর্তী-১৮৫৪৫)
৫৩)কৈলাশহর:-সি.পি.আই.এম (মোবস্বর আলী-১৮০৯৩)
৫৪)কদমতলা-কুর্তি:-সি.পি.আই.এম (ইসলাম উদ্দিন-২০৭২১)
৫৫)বাগবাসা:-সি.পি.আই.এম (বিজিতা নাথ-১৭৪৩৬)
৫৬)ধর্মনগর:-বিজেপি (বিশ্ববন্ধু সেন-২১৩৫৭)
৫৭)যুবরাগনগর:- সি.পি.আই.এম ( রামেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ -১৭৪৮০)
৫৮)পানিসাগর:-বিজেপি (বিনয়বিষ্ণু দাস-১৫৮৯২)
৫৯)পেঁচারথল:-বিজেপি (শান্তনা চাকমা-১৭৭৪৩)
৬০)কাঞ্চনপুর:-আই.পি.এফ.টি (প্রেমকুমার রিয়াং-১৯৪৪৮)
================
১)সীমনা:-বিজেপি(বিশ্বকেতু দেব্বর্মা-১৫৯৭৭)।
২)মোহনপুর:-বিজেপি(রতনলাল নাথ-২২৫১৬)।
৩)বামুটিয়া:-বিজেপি(কৃষ্ণধন দাস-২০০১৪)।
৪)বড়জলা:- বিজেপি(দিলীপ কুমার দাস -২২০৫২)
৫)খয়েরপুর:- বিজেপি(রতন চক্রবর্তী -২৫৪৯৬)
৬)আগরতলা:-বিজেপি (সুদীপ রায় বর্মণ-২৫২৩৪)
৭)রামনগর:- বিজেপি(সুরজিত দত্ত -২১০৯২)
৮)টাউন বরদোয়ালী:-বিজেপি (আসিস কুমার সাহা -২৪২৯৩)
৯)বনমালীপুর:-বিজেপি (বিপ্লব কুমার দেব-২১৭৫৫)
১০)মজলিশপুর:-বিজেপি ( সুশান্ত চৌধুরী -২৩২৪৯)
১১)মান্দাই:-আই.পি.এফ.টি (ধীরেন্দ্র দেব্বর্মা-২১৩৮১)
১২)টাকারজলা:-আই.পি.এফ.টি (নরেন্দ্রচন্দ্র দেব্বর্মা-২২০৫৬)
১৩)প্রতাপগড়:-বিজেপি (রেবতীমোহন দাস-২৫৮৩৪)
১৪)বাঁধারঘাট:-বিজেপি (দীলিপ সরকার-২৮৫৬১)
১৫)কমলাসাগর:-সি.পি.আই.এম (নারায়ণ চৌধুরী-১৮৮৪৭)
১৬)বিশালগড়:-সি.পি.আই.এম (ভানুলাল সাহা-২১২৫৪)
১৭)গোলাঘাটি:-বিজেপি (বীরেন্দ্রকিশোর দেব্বর্মা-১৯২২৮)
১৮)সূর্য্যমণিনগর:-বিজেপি (রামপ্রসাদ পাল-২৪৮৭৪)
১৯)চড়িলাম:-নির্বাচন স্থগিত
২০)বক্সনগর:-সি.পি.আই.এম (শহীদ চৌধুরী-১৯৮৬২)
২১)নলছড়:-বিজেপি (শুভাশিস চন্দ্র দাস-১৯৮৬২)
২২)সোনামুড়া:-সিপিআইএম (শ্যামল চক্রবর্তী -14578)
২৩)ধনপুর:-সিপিআইএম (মানিক সরকার -১৪০২৭)
২৪)রামচন্দ্রঘাট:-আই.পি.এফ.টি (প্রশান্ত দেব্বর্মা-১৯৪৩৯)
২৫)খোয়াই:-সি.পি.আই.এম (নির্মল বিশ্বাস-২০৬২৯)
২৬)আশারামবাড়ি:-আই.পি.এফ.টি (মেবারকুমার জমাতিয়া-১৯১৮৮)
২৭)কল্যাণপুর-প্রমোদনগর:-বিজেপি (পিণাকীদাস চৌধুরী-২০২৯৩)
২৮)তেলিয়ামুড়া:- বিজেপি (কল্যাণী রায় -২২৪১৪)
২৯)কৃষ্ণপুর:- বিজেপি (অতুল দেব্বর্মা-১৬৭৩০)
৩০)বাগমা:-বিজেপি (রামপদ জমাতিয়া-২৪০৭৪)
৩১)রাধাকিশোরপুর:-বিজেপি ( প্রসেনজিৎ সিংহ রায় -২২৪১৪)
৩২)মাতাবাড়ি:- বিজেপি (বিপ্লব কুমার ঘোষ -২৩০৬৯)
৩৩)শালগড়া:-সি.পি.আই.এম (রতন কুমার ভৌমিক-২৪৮৩৫)
৩৪)রাজনগর:-সি.পি.আই.এম (সুধন দাস-২২০০৪)
৩৫)বিলোনিয়া:-বিজেপি (অরুণচন্দ্র ভৌমিক-১৯৩০৭)
৩৬)শান্তিরবাজার:-বিজেপি (প্রমোদ রিয়াং-২১৭০১)
৩৭)ঋষ্যমুখ:-সি.পি.আই.এম (বাদল চৌধুরী-২২৬৭৩)
৩৮)জোলাইবাড়ি:-সি.পি.আই.এম (যশোবীর ত্রিপুরা-২১১৬০)
৩৯)মনু:-সি.পি.আই.এম ( প্রভাত চৌধুরী -১৯৪৩২)
৪০)সাব্রুম:-বিজেপি (শঙ্কর রায়-২১০৫৯)
৪১)অম্পিনগর:-আই.পি.এফ.টি ( সিন্ধু চন্দ্র জমাতিয়া -১৮২০২)
৪২)অমরপুর:-বিজেপি (রনজিৎ দাস -১৬৫৫৫)
৪৩)করবুক:-বিজেপি (বুর্বমোহন ত্রিপুরা-১৫৬২২)
৪৪)রাইমাভ্যলী:-আই.পি.এফ.টি (ধনঞ্জয় ত্রিপুরা-১৮৬৭৩)
৪৫)কমলপুর:-বিজেপি (মনোজ কান্তি দেব-২০১৬৫)
৪৬)সুরমা:-বিজেপি (আশিস দাস-২০৭৬৭)
৪৭)আমবাসা:-বিজেপি (পরিমল দেব্বর্মা-২০৮৪২)
৪৮)করমছড়া:- বিজেপি (দিবাচন্দ্র রাঙখল-১৯৩৯৭)
৪৯)ছামনু:-বিজেপি (শম্ভুলাল চাকমা-১৮২৯০)
৫০)পাবিয়াছড়া:-বিজেপি (ভগবান দাস-২২৮১৫)
৫১)ফটিকরায়:-বিজেপি (সুধাংশু দাস-১৯৫১২)
৫২)চন্ডীপুর:-সি.পি.আই.এম (তপন চক্রবর্তী-১৮৫৪৫)
৫৩)কৈলাশহর:-সি.পি.আই.এম (মোবস্বর আলী-১৮০৯৩)
৫৪)কদমতলা-কুর্তি:-সি.পি.আই.এম (ইসলাম উদ্দিন-২০৭২১)
৫৫)বাগবাসা:-সি.পি.আই.এম (বিজিতা নাথ-১৭৪৩৬)
৫৬)ধর্মনগর:-বিজেপি (বিশ্ববন্ধু সেন-২১৩৫৭)
৫৭)যুবরাগনগর:- সি.পি.আই.এম ( রামেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ -১৭৪৮০)
৫৮)পানিসাগর:-বিজেপি (বিনয়বিষ্ণু দাস-১৫৮৯২)
৫৯)পেঁচারথল:-বিজেপি (শান্তনা চাকমা-১৭৭৪৩)
৬০)কাঞ্চনপুর:-আই.পি.এফ.টি (প্রেমকুমার রিয়াং-১৯৪৪৮)
Thursday, December 7, 2017
বাবরি মসজিদ বনাম রাম মন্দির,
🌷বাবরি মসজিদ বনাম রাম মন্দির🌷
![]() |
| 🌷 |
ভারতের ইতিহাসে একটি রক্তাক্ত নাম বাবরি মসিজদ। দেশটির উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে ১৫২৮-২৯ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে মসজিদটি তৈরি করেন মীর বাকী। বাবরের নামেই মসজিদটির নামকরণ করা হয় বাবরি মসজিদ। ভারতীয় হিন্দুদের একটি অংশ মনে করে, ওই জায়গাটি হচ্ছে তাদের দেবতা রামের জন্মভূমি। তাদের ধারণা, যেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানে আগে রাম মন্দির ছিল। এ নিয়ে প্রথমে ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হলেও পরে তা রাজনৈতিক রূপ পায়।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেয় মৌলবাদী হিন্দুরা। এ নিয়ে ভারতে শুরু হয় সম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এতে নিহত হয় অন্তত ২ হাজার। ভারতের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে হয়েছে মামলা। সেই মামলা নিয়েও হয়েছে বিতর্ক।
সর্বপ্রথম ১৮৫৩ সালে বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। নবাব ওয়াজেদ আলি শাহর সময় প্রথমবারের মতো হিন্দুদের একটি অংশ দাবি তোলে, সম্রাট বাবরের সময়ে উত্তরপ্রদেশে রামমন্দির ধ্বংস করে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। সেই থেকে শুরু। পরে ১৮৫৯ সালে ব্রিটিশরা ভারত শাসনের সময় হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বের কারণ ওই জায়গাকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়। একভাগ হিন্দুদের, অন্যভাগ মুসলিমদের দেয়া হয়। এ নিয়ে ১৮৮৫ সালে প্রথম মামলা করেন মহন্ত রঘুবীর দাস নামের একজন। মামলায় মসজিদের বাইরে হিন্দুদের জন্য একটি শামিয়ানা খাটানো ও মঞ্চ তৈরির কথা বলা হয়। তবে সেই মামলা খারিজ করে দেয় ফৈজাবাদ জেলা আদালত।
১৯৪৯ সালে হিন্দু দেবতা রামচন্দ্রের একটি মূর্তি পাওয়া যায় মসজিদের ভেতর। ওই মূর্তি হিন্দুরা গোপনে মসজিদে রেখে এসেছে বলে অভিযোগ করে মুসলিমরা। দুই পক্ষই মসজিদের জায়গা দাবি করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই জায়গা বিতর্কিত ঘোষণা করে তালা ঝুলিয়ে দেয় সরকার।
১৯৫০ সালে গোপাল সিং বিশারদ ও মহন্ত পরমহংস রামচন্দ্র দাস নামের দুইজন ওই স্থানে প্রার্থনা করার জন্য আবারও ফৈজাবাদ আদালতে আবেদন করে। ফলে জায়গাটি খুলে দেয়া হয়। জায়গাটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হিন্দুদের দেয়ার জন্য ১৯৫৯ সালে আদালতে আবেদন করে তারা। ১৯৬১ সালে ওয়াকফের সুন্নি সেন্ট্রাল বোর্ড মসজিদে হিন্দু দেবতার মূর্তি স্থাপনের বিরুদ্ধে আবেদন করে।
১৯৮৪ সালে মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির গড়তে একটি কমিটি করে হিন্দুরা। তাদের সেই মৌলবাদী আন্দোলনই এক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মঞ্চে আসে ভারতের হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির নেতৃত্বে শুরু হয় এই আন্দোলন।
১৯৮৬ সাল হরি শঙ্কর দুব নামের এক হিন্দুর আবেদনের ভিত্তিতে জেলা আদালত নির্দেশ দেয় মসজিদের গেট খুলে দেয়ার এবং সেখানে হিন্দুরা প্রার্থনা করার। এর প্রতিবাদ জানায় মুসলিমরা। তারা গঠন করে ‘বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি’। ১৯৮৯ সালে ভারতের আরেক মৌলবাদী সংগঠন ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ (ভিএইচপি) বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। সংগঠনটির সাবেক সহ-সভাপতি বিচারপতি দেবকী নন্দন আগরওয়াল বাবরি মসজিদ অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার আবেদন করেন আদালতে। এতে সবগুলো আবেদনই হাইকোর্টে স্থানান্তর করা হয়।
বাবরি মসজিদ হামলা
১৯৯০ সালে ভিএইচপি নেতৃত্বাধীন হিন্দু মৌলবাদীরা মসজিদ ধ্বংসের চেষ্টা করে। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে লালকৃষ্ণ আদভঅনি গুজরাট রাজ্যের সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত এক বিতর্কিত রথযাত্রা করে রাম মন্দিরের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেন।
এদিকে ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধান বিরোধী দলে হয়ে ওঠে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি। উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায়ও আসে তারা। তারা মন্দির আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নেন। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয় চরমপন্থি হিন্দুরা। তাদের এই কাজে সমর্থন দেয় শিবসেনা, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বিজেপি। ওই ঘটনায় ভারতজুড়ে শুরু হয় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এতে প্রাণ হারায় ২ হাজার মানুষ। ঘটনা তদন্তে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও সরকার বিচারপতি এমএস লিবারহানের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে।
২০০১ সালে মসজিদ ধ্বংসের দশ বছর পূর্তিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় ভারতে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আবারও দাবি করে, অযোধ্যার ওই জমিতে রাম মন্দির তারা তৈরি করবেই। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের আবারও হয় দাঙ্গা। নিহত হয় ১ হাজার জন। ওই বছরই গুজরাটের হাইকোর্ট আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে পরীক্ষা করতে নির্দেশ দেয়, মসজিদের নিচে কোনও মন্দির আছে কিনা।
২০০৩ সালে জরিপ শুরু করে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের নিচে একটি মন্দিরের অস্তিত্ব আছে। তবে ওই প্রতিবেদন মানতে অস্বীকার করে মুসলিমরা। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাত হিন্দু নেতার বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় বিচারের কথা বলা হয়। তবে উপ-প্রধানমন্ত্রী থাকায় লালকৃষ্ণ আদভানির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা যায়নি।
২০০৪ সাল উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস। আদালত রায় দেয়, মামলায় আদভানির নামও রাখতে হবে। ২০০৯ সাল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তৈরি লিবারহান কমিশন জুন মাসে রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে ঘটনার জন্য বিজেপি নেতাদের দায়ী করা হয়। এ নিয়ে ভারতের সংসদে হাঙ্গামা হয়।
২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত এই মামলায় রায় দেয়। বলা হয়, জমিকে তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। এক অংশ পাবে হিন্দু মহাসভা, এক অংশ পাবে মুসলমি ওয়াকফ বোর্ড এবং তৃতীয় অংশ যাবে নির্মোহী আখাড়ায়। রায়ের বিরুদ্ধে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে। ২০১১ সালে রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।
২০১৪ সালে ভারত ক্ষমতায় আসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। এ সময় থেকে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে হিন্দুত্ববাদ। ভিএইচপি ঘোষণা করে, সারা দেশ থেকে পাথর সংগ্রহ করে রাম মন্দির তৈরি করা হবে। এতে বিজেপি সরকারের সমর্থন আছে বলেও জানায় তারা। কয়েক মাস পরে ২ লরি পাথর বাবরি মসজিদের জমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে বাধা দেয় তৎকালীন উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় থাকা অখিলেশ যাদব সরকার। এভাবে রাম মন্দির তৈরি করা যাবে না বলে তারা জানায়।
২০১৭ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসে লালকৃষ্ণ আদভানি ও অন্য হিন্দু নেতাদের নামে চার্জ সরানো যাবে না বলে জানায় ভারতের সুপ্রিমকোর্ট। এ ধরনের সংবেদনশীল মামলা আদালতের বাইরে মেটানোরও পরামর্শ দেয় তারা। ৩০ মে লালকৃষ্ণ আদভাণীসহ বিজেপির অন্য শীর্ষ নেতাদের আগাম জামিন মঞ্জুর করে দেশটির তদন্ত সংস্থা সিবিআই’র বিশেষ আদালত। লখনউতে সিবিআইর ওই আদালত আদভাণী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতী, মুরলী মনোহরসহ মোট ১২ নেতাকে জামিন দেয়।
বারো অভিযুক্ত নেতাকেই পঞ্চাশ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেন বিচারক। অভিযুক্তরা অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তবে সে বিষয়ে এখনো কোনো রায় দেয়নি আদালত। অভিযুক্ত বিজেপি নেতাদের অব্যাহতির আবেদন আদালত মেনে না নিলে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে শুনানি শুরু হবে।
মামলা অভিযুক্ত বিজেপির শীর্ষ ৩ নেতা: উমা ভারতী, আদভানী ও মুরলি মনোহর
মামলায় অভিযুক্ত অন্য বিজেপি নেতারা হচ্ছেন: বিনয় কাটিয়ার, বিষ্ণুহরি ডালমিয়া, সতীশ প্রধান, সিআর বনশাল, সাধ্বী রীতম্ভরা, আরভি বেদান্তি, জগদীশ মুনি মহারাজ, বিএল শর্মা, নিত্যগোপাল দাস, ধর্ম দাস ও সতীশ নাগার।
Tuesday, September 19, 2017
১০ই মহরম সৃতিময় হয়ে থাকবে আজিবন"
"১০ই মহরম সৃতিময় হয়ে থাকবে আজিবন"
-------------------------------- কারবালার মাঠে একে-একে যখন সবাই শাহাদাত বরন করছেন এবং হজরত ইমাম হোসাইন(আ.) যখন কেবল একা দাড়িয়ে ছিলেন, তখন তার শেষ কয়টি কথার কিছু অংশের অনুবাদঃ
"কেন আমাকে হত্যা করতে চাও? আমি কি কোন পাপ অথবা অপরাধ করেছি?" এজিদের সৈন্য বাহিনী বোবার মত দাড়িয়ে রইল। পুনরায় ইমাম হোসাইন(আ.) বললেন, "আমাকে হত্যা করলে আল্লাহ্র কাছে কি জবাব দেবে? কি জবাব দেবে বিচার দিবসে মহানবীর কাছে?" এজিদের সৈন্য বাহিনী পাথরের মত দাঁড়িয়ে আছে। আবার ইমাম হোসাইন(রঃ) বললেন, 'হাল্ মিন্ নাস্রিন ইয়ানসুরুনা?" 'আমাদের সাহায্য করার মত কি তোমাদের মাঝে একজনও নাই?' তারপরের আহ্বানটি সাংঘাতিক মারাত্বক। ঐতিহাসিকদের মতে এটাই ইমাম হোসাইন(আ.) -এর শেষ আহ্ববান। "আলাম্ তাস্মাও? আলাইসা ফিকুম্ মুসলিমু?" 'আমার কথা কি শুনতে পাও না? তোমাদের মাঝে কি মাত্র একজন মুসলমানও নাই?'
ইমাম হোসাইন(আ.)-এর শেষ ভাষনটি মাত্র একটি ছোট্র বাক্য। তবে এর ব্যাখ্যা যদি কাঁচ ভাঙ্গার মত টুকরো-টুকরো করে দেখাতে চাই তাহলে সেই বাক্যটি হবে খুবই বেদনা দায়ক। তাই বেশি কিছু না বলে শেষ বাক্যটির সামান্য ব্যাখ্যা দিয়ে শেষ করবো। খাজা বাবা যেমন বলেছেন, 'ইমাম হোসাইন আসল এবং নকলের ব্যবধানটা পরিস্কার করে দেখিয়ে গেলেন' সে রকমই অর্থ বহন করছে ইমাম হোসাইন(আ.)-এর শেষ ভাষনটিতে। কারন, এজিদের সৈন্য বাহিনীতে একজন ও হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিস্টান অথবা অন্য কোন ধর্মের কেউ ছিল না। সবাই ছিল মুসলমান। অথচ কি সাংঘাতিক এবং ভয়ংকর ভাষন-''তোমাদের মাঝে কি একজন মুসলমানও নাই?'' এজিদের সৈন্যবাহিনীর সবাই মুসলমান এটা আমি অধমের কথা নয় বরং যে কোন বিজ্ঞ আলেমকে প্রশ্ন করে দেখুন। অথচ ইমাম হোসাইন(রঃ) একি তাক লাগানো কথা বলছেন? "তোমাদের মাঝে কি একটি মাত্রও মুসলমান নাই?" না, একটিও সত্যিকার আসল মুসলমান ছিল না বলেই ইমাম হোসাইন(আ.) এই আহ্বান জানিয়ে পৃথিবীকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন যে, যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা সবাই নকল মুসলমান। বাজারের চালু আসল মালকে নকল করে যেমন জনতাকে ধোঁকা দেয়, সে রকম এরা নকল মুসলমান হয়ে জনতাকে ধোঁকা দিয়ে যায় এবং এই ধোকার ফাদে অনেক বিজ্ঞজনও মনের অজান্তে পা-খানা বাড়িয়ে দেন। বাজারে গিয়ে অনেক বিজ্ঞজনও নকল মাল কেনার ফাঁদে পড়ে যান, সে রকম অবস্থার শিকারও বলতে পারেন। আসল আর নকল চেনবার বিদ্যা রপ্ত করতে হয়, যদিও বিদ্যার প্রশ্নে তা সামান্য। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সবচাইতে বড় অধ্যাপককে জায়গাজমি কেনার দলিল লিখতে বললে অক্ষমতা প্রকাশ করবেন, অথচ সেই দলিল লিখছে অল্প শিক্ষিত দলিল-লিখক। তাই আসল আর নকল কে চিনতে হলে একটি বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন হয় অনেক ক্ষেত্রে। তবে সবার জন্য অবশ্যই নয়।
এখন মূল বিষয়টির দিকে ফিরে আসছি। সেই বিষয়টি হলো, হজরত ওয়ায়েস করনি কিন্তু মহানবীকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করা তো দূরে থাক, জীবনে একবার জাহিরি চোখে দেখার ভাগ্যও হয়নি। তাই তাকে সাহাবার খেতাব থেকে বাদ দেওয়া হয়, অথচ কোন কারন নেই, কোন যুক্তি নেই, কোন প্রশ্ন আর সংশয়ের বালাই নেই, কেবল মাত্র মহানবীর প্রতি ভালবাসার দরুন তিনি একে একে সব কটি দাঁত পাথরের আঘাতে ভেঙ্গে ফেললেন। কেন ভাঙলেন এই প্রশ্নের উত্তর খোজা বৃথা। কারন যুক্তির ব্যাখ্যা দেওয়া যায়, কিন্তু ভালোবাসা আর বিশ্বাসের ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। এবং এর ব্যাখ্যা নেই। হজরত ওয়ায়েস করনির মনপ্রান জুড়ে মহানবীর প্রতি কতটুকু ভালোবাসা থাকলে দাঁত ভেঙ্গে রক্ত ঝরাতে পারেন। হয়তো যুক্তি তর্কের মানদন্ডে এই ভালোবাসার মুল্যায়ন কতটুকু বলতে পারবো না তবে, এটুকু অন্তত বলতে চাই যে, ভালোবাসাকে ভালোবাসা দিয়েই মাপতে হয়। অনেকে হয়ত বলতে চাইবেন যে, এ রকম দাঁত ভেঙ্গে ফেলার ভালোবাসার কি মুল্য থাকতে পারে ? এর উত্তর দিতে চাই না এজন্যই যে, এ রকম কিছু প্রশ্ন তোলার মানুষ না থাকলে ভালোবাসার রূপটি একঘেয়েমিতে পরিনত হয়। বিচিত্রতার ঝাকুনি থাকে না। তাই মহানবী তাঁর নিজের জুব্বা মোবারক দিয়ে এই ভালোবাসার মুল্যয়ন করেছেন। এখন আরেকটি বিরাট প্রশ্ন তুলতে চাই যে, মহানবী যে ইমাম হোসাইনকে কতটুকু ভালোবাসতেন তা অনেকেই জানেন, তবু একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই যে, মহানবী বলেছেন যে, বেহেস্তের দুইজন সরদার হলেন "হাসান এবং হোসাইন" এবং তিনি অন্য আরেকটি হাদিসে বলেছেন, হোসাইনকে যারা ভালোবাসে, তারা হোসাইনের সঙ্গে থাকবে তথা বেহেস্তে থাকবে। একটি প্রশ্ন আসতে পারে তা হলো, ইমাম হোসেনের কারবালার মাঠে সবচেয়ে বেদনাদায়ক শাহাদাত বরনের শোকে ইমাম হোসেনের জন্য শোকের মাতম তুলে, বুক চাপড়িয়ে, ছোট ছোট চাকুর ছড়া দিয়ে পিঠে আঘাত করে 'হায় হোসেন' 'হায় হোসেন' করে রক্ত ঝরায়, তাহলে ইমাম হোসাইন এই ভালোবাসার জন্য কি কিছুই দেবেন না? কারন নিরেট ভালোবাসা এবং এই ভালোবাসার ব্যাখ্যা ও যুক্তি উভয়ই সম্পূর্নরূপে বেকার। ইমাম হোসাইনের ভালোবাসায় কেউ মাতম না করলেও বলার কিছু থাকে না। কারন এটা ব্যাক্তিগত ব্যাপার তা ছাড়া ভালোবাসা তৈরি করা যায় না। আর যারা ইমাম হোসাইনের ভালোবাসায় মাতম করে, রক্ত ঝরায় তাদেরকেও বলার কিছুই থাকে না। কারন যুক্তি ও ব্যাখ্যার যেখানে কবর বা শেষ, ভালোবাসা সেখান থেকেই আরম্ভ হয়। এটা হৃদয় দিয়ে বুঝতে হয় মাথা দিয়ে নয়। যুগে যুগে সব সময় এক শ্রেনীর মানুষ বুঝে মাথা দিয়ে, আর একশ্রেনী বুঝে হৃদয় দিয়ে। কাউকেই তুচ্ছ করা যায় না। কারন এই দ্বান্দ্বিক পদ্বতিতেই সব কিছুর রহস্য লুকিয়ে আছে। কেউ বুঝে কেউ বুঝে না। তাই কাউকেই দোষারোপ না করে এটা যার যার তকদিরের লিখন বললেই সুন্দর মানায়।
"ইয়া ঈমাম হোসাইন রাঃ আঃ"
-------------------------------- কারবালার মাঠে একে-একে যখন সবাই শাহাদাত বরন করছেন এবং হজরত ইমাম হোসাইন(আ.) যখন কেবল একা দাড়িয়ে ছিলেন, তখন তার শেষ কয়টি কথার কিছু অংশের অনুবাদঃ
"কেন আমাকে হত্যা করতে চাও? আমি কি কোন পাপ অথবা অপরাধ করেছি?" এজিদের সৈন্য বাহিনী বোবার মত দাড়িয়ে রইল। পুনরায় ইমাম হোসাইন(আ.) বললেন, "আমাকে হত্যা করলে আল্লাহ্র কাছে কি জবাব দেবে? কি জবাব দেবে বিচার দিবসে মহানবীর কাছে?" এজিদের সৈন্য বাহিনী পাথরের মত দাঁড়িয়ে আছে। আবার ইমাম হোসাইন(রঃ) বললেন, 'হাল্ মিন্ নাস্রিন ইয়ানসুরুনা?" 'আমাদের সাহায্য করার মত কি তোমাদের মাঝে একজনও নাই?' তারপরের আহ্বানটি সাংঘাতিক মারাত্বক। ঐতিহাসিকদের মতে এটাই ইমাম হোসাইন(আ.) -এর শেষ আহ্ববান। "আলাম্ তাস্মাও? আলাইসা ফিকুম্ মুসলিমু?" 'আমার কথা কি শুনতে পাও না? তোমাদের মাঝে কি মাত্র একজন মুসলমানও নাই?'
ইমাম হোসাইন(আ.)-এর শেষ ভাষনটি মাত্র একটি ছোট্র বাক্য। তবে এর ব্যাখ্যা যদি কাঁচ ভাঙ্গার মত টুকরো-টুকরো করে দেখাতে চাই তাহলে সেই বাক্যটি হবে খুবই বেদনা দায়ক। তাই বেশি কিছু না বলে শেষ বাক্যটির সামান্য ব্যাখ্যা দিয়ে শেষ করবো। খাজা বাবা যেমন বলেছেন, 'ইমাম হোসাইন আসল এবং নকলের ব্যবধানটা পরিস্কার করে দেখিয়ে গেলেন' সে রকমই অর্থ বহন করছে ইমাম হোসাইন(আ.)-এর শেষ ভাষনটিতে। কারন, এজিদের সৈন্য বাহিনীতে একজন ও হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিস্টান অথবা অন্য কোন ধর্মের কেউ ছিল না। সবাই ছিল মুসলমান। অথচ কি সাংঘাতিক এবং ভয়ংকর ভাষন-''তোমাদের মাঝে কি একজন মুসলমানও নাই?'' এজিদের সৈন্যবাহিনীর সবাই মুসলমান এটা আমি অধমের কথা নয় বরং যে কোন বিজ্ঞ আলেমকে প্রশ্ন করে দেখুন। অথচ ইমাম হোসাইন(রঃ) একি তাক লাগানো কথা বলছেন? "তোমাদের মাঝে কি একটি মাত্রও মুসলমান নাই?" না, একটিও সত্যিকার আসল মুসলমান ছিল না বলেই ইমাম হোসাইন(আ.) এই আহ্বান জানিয়ে পৃথিবীকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন যে, যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা সবাই নকল মুসলমান। বাজারের চালু আসল মালকে নকল করে যেমন জনতাকে ধোঁকা দেয়, সে রকম এরা নকল মুসলমান হয়ে জনতাকে ধোঁকা দিয়ে যায় এবং এই ধোকার ফাদে অনেক বিজ্ঞজনও মনের অজান্তে পা-খানা বাড়িয়ে দেন। বাজারে গিয়ে অনেক বিজ্ঞজনও নকল মাল কেনার ফাঁদে পড়ে যান, সে রকম অবস্থার শিকারও বলতে পারেন। আসল আর নকল চেনবার বিদ্যা রপ্ত করতে হয়, যদিও বিদ্যার প্রশ্নে তা সামান্য। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সবচাইতে বড় অধ্যাপককে জায়গাজমি কেনার দলিল লিখতে বললে অক্ষমতা প্রকাশ করবেন, অথচ সেই দলিল লিখছে অল্প শিক্ষিত দলিল-লিখক। তাই আসল আর নকল কে চিনতে হলে একটি বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন হয় অনেক ক্ষেত্রে। তবে সবার জন্য অবশ্যই নয়।
এখন মূল বিষয়টির দিকে ফিরে আসছি। সেই বিষয়টি হলো, হজরত ওয়ায়েস করনি কিন্তু মহানবীকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করা তো দূরে থাক, জীবনে একবার জাহিরি চোখে দেখার ভাগ্যও হয়নি। তাই তাকে সাহাবার খেতাব থেকে বাদ দেওয়া হয়, অথচ কোন কারন নেই, কোন যুক্তি নেই, কোন প্রশ্ন আর সংশয়ের বালাই নেই, কেবল মাত্র মহানবীর প্রতি ভালবাসার দরুন তিনি একে একে সব কটি দাঁত পাথরের আঘাতে ভেঙ্গে ফেললেন। কেন ভাঙলেন এই প্রশ্নের উত্তর খোজা বৃথা। কারন যুক্তির ব্যাখ্যা দেওয়া যায়, কিন্তু ভালোবাসা আর বিশ্বাসের ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। এবং এর ব্যাখ্যা নেই। হজরত ওয়ায়েস করনির মনপ্রান জুড়ে মহানবীর প্রতি কতটুকু ভালোবাসা থাকলে দাঁত ভেঙ্গে রক্ত ঝরাতে পারেন। হয়তো যুক্তি তর্কের মানদন্ডে এই ভালোবাসার মুল্যায়ন কতটুকু বলতে পারবো না তবে, এটুকু অন্তত বলতে চাই যে, ভালোবাসাকে ভালোবাসা দিয়েই মাপতে হয়। অনেকে হয়ত বলতে চাইবেন যে, এ রকম দাঁত ভেঙ্গে ফেলার ভালোবাসার কি মুল্য থাকতে পারে ? এর উত্তর দিতে চাই না এজন্যই যে, এ রকম কিছু প্রশ্ন তোলার মানুষ না থাকলে ভালোবাসার রূপটি একঘেয়েমিতে পরিনত হয়। বিচিত্রতার ঝাকুনি থাকে না। তাই মহানবী তাঁর নিজের জুব্বা মোবারক দিয়ে এই ভালোবাসার মুল্যয়ন করেছেন। এখন আরেকটি বিরাট প্রশ্ন তুলতে চাই যে, মহানবী যে ইমাম হোসাইনকে কতটুকু ভালোবাসতেন তা অনেকেই জানেন, তবু একটি কথা মনে করিয়ে দিতে চাই যে, মহানবী বলেছেন যে, বেহেস্তের দুইজন সরদার হলেন "হাসান এবং হোসাইন" এবং তিনি অন্য আরেকটি হাদিসে বলেছেন, হোসাইনকে যারা ভালোবাসে, তারা হোসাইনের সঙ্গে থাকবে তথা বেহেস্তে থাকবে। একটি প্রশ্ন আসতে পারে তা হলো, ইমাম হোসেনের কারবালার মাঠে সবচেয়ে বেদনাদায়ক শাহাদাত বরনের শোকে ইমাম হোসেনের জন্য শোকের মাতম তুলে, বুক চাপড়িয়ে, ছোট ছোট চাকুর ছড়া দিয়ে পিঠে আঘাত করে 'হায় হোসেন' 'হায় হোসেন' করে রক্ত ঝরায়, তাহলে ইমাম হোসাইন এই ভালোবাসার জন্য কি কিছুই দেবেন না? কারন নিরেট ভালোবাসা এবং এই ভালোবাসার ব্যাখ্যা ও যুক্তি উভয়ই সম্পূর্নরূপে বেকার। ইমাম হোসাইনের ভালোবাসায় কেউ মাতম না করলেও বলার কিছু থাকে না। কারন এটা ব্যাক্তিগত ব্যাপার তা ছাড়া ভালোবাসা তৈরি করা যায় না। আর যারা ইমাম হোসাইনের ভালোবাসায় মাতম করে, রক্ত ঝরায় তাদেরকেও বলার কিছুই থাকে না। কারন যুক্তি ও ব্যাখ্যার যেখানে কবর বা শেষ, ভালোবাসা সেখান থেকেই আরম্ভ হয়। এটা হৃদয় দিয়ে বুঝতে হয় মাথা দিয়ে নয়। যুগে যুগে সব সময় এক শ্রেনীর মানুষ বুঝে মাথা দিয়ে, আর একশ্রেনী বুঝে হৃদয় দিয়ে। কাউকেই তুচ্ছ করা যায় না। কারন এই দ্বান্দ্বিক পদ্বতিতেই সব কিছুর রহস্য লুকিয়ে আছে। কেউ বুঝে কেউ বুঝে না। তাই কাউকেই দোষারোপ না করে এটা যার যার তকদিরের লিখন বললেই সুন্দর মানায়।
"ইয়া ঈমাম হোসাইন রাঃ আঃ"
Friday, July 28, 2017
Tuesday, July 25, 2017
Monday, July 10, 2017
_আপনার "মোবাইল টি হতে পারে আপনার ব্যাংক"।
_বন্ধুগন,_*
*_আপনার "মোবাইল টি হতে পারে আপনার ব্যাংক"।বিনা পয়সায় ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে উপার্জন শিখুন আরও 15 জনকে শিখান।_*
*_প্রধান মন্ত্রী:- মোদী জী।_*
*আপনার সমস্ত অভাব দূর করতে ভারতে এই প্রথম DIGITAL INDIA নিয়ে এল সোনালী সুযোগ। DIGITAL INDIAই এক পয়সা খরচ না করেই বিনা পূজীতে ঘরে বসে একটা বড় উপার্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। 2-3 ঘন্টা মোবাইলে কাজ করে প্রতিদিনে অনায়াসে উপার্জন করতে পারেন 500-1,000 টাকা। প্রয়জোন কেবলমাত্র একটি Android ফোন আর ইন্টারনেট কানেকশান। জয়েন করতে আপনার কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হবে না, সম্পূর্ণ ফ্রী জয়েনিং, প্রথমে জয়েন করুন তারপর বিশ্বাস করুন, এরপর আপনার মর্জ্জি। আসুন বেকার সমস্যাকে ভারত থেকে দূর করতে আমাদের কে সহযোগিতা করুন.... কি ভাবে করবেন ?*
*1. প্রথমে আপনার ফোনের PlayStore এ গিয়ে ChampCash Money free
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.cash.champ
👈 Apps টি Install করুন*
*2. Sign up with Champcash এ click করে আপনার নাম ঠিকানা দিয়ে proceed করুন।*
http://champcash.com/16929404
*3. Refer ID চাইলে 16929404👈 দিয়ে verify / accept করুন।*
*4. এরপর কিছু application install করার Challenge আসবে Challenge টি সম্পূর্ণ করলেই Bonus Income 1$ (যার ভারতীয় মূল্য 62 টাকা) পেয়ে যাবেন আর আপনার নিজস্ব Sponsor ID তৈরি হয়ে যাবে, যার দ্বারা আপনি ব্যবসাটি করতে পারবেন। জয়েন করার পর নীচের নম্বরে যোগাযোগ করলেই আমি আপনাকে এই সমস্ত কাজ শিখার জন্য WhatsApp Training group এ জুড়ে দেবো। এটা কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়। আপনার কোনো রকম সন্ধেহ হলে আপনি YouTube এবং Google এ Search করে দেখে নিতে পারেন।*
*ইনকামের টাকা টা আপনি মাসের শেষে ব্যঙ্কে অ্যাকাউন্ট এ ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন,এছারাও এই টাকা টা মোবাইল রিচার্জ করেও খরচ করতে পারবেন জয়েন করার পর যেকোনো রকম সুবিধার জন্য নীচের নম্বরে WhatsApp/Call এ যোগাযোগ করুন।*
*_👉🏿 +918415904781(WhatsApp)
*_আপনার "মোবাইল টি হতে পারে আপনার ব্যাংক"।বিনা পয়সায় ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে উপার্জন শিখুন আরও 15 জনকে শিখান।_*
*_প্রধান মন্ত্রী:- মোদী জী।_*
*আপনার সমস্ত অভাব দূর করতে ভারতে এই প্রথম DIGITAL INDIA নিয়ে এল সোনালী সুযোগ। DIGITAL INDIAই এক পয়সা খরচ না করেই বিনা পূজীতে ঘরে বসে একটা বড় উপার্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। 2-3 ঘন্টা মোবাইলে কাজ করে প্রতিদিনে অনায়াসে উপার্জন করতে পারেন 500-1,000 টাকা। প্রয়জোন কেবলমাত্র একটি Android ফোন আর ইন্টারনেট কানেকশান। জয়েন করতে আপনার কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হবে না, সম্পূর্ণ ফ্রী জয়েনিং, প্রথমে জয়েন করুন তারপর বিশ্বাস করুন, এরপর আপনার মর্জ্জি। আসুন বেকার সমস্যাকে ভারত থেকে দূর করতে আমাদের কে সহযোগিতা করুন.... কি ভাবে করবেন ?*
*1. প্রথমে আপনার ফোনের PlayStore এ গিয়ে ChampCash Money free
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.cash.champ
👈 Apps টি Install করুন*
*2. Sign up with Champcash এ click করে আপনার নাম ঠিকানা দিয়ে proceed করুন।*
http://champcash.com/16929404
*3. Refer ID চাইলে 16929404👈 দিয়ে verify / accept করুন।*
*4. এরপর কিছু application install করার Challenge আসবে Challenge টি সম্পূর্ণ করলেই Bonus Income 1$ (যার ভারতীয় মূল্য 62 টাকা) পেয়ে যাবেন আর আপনার নিজস্ব Sponsor ID তৈরি হয়ে যাবে, যার দ্বারা আপনি ব্যবসাটি করতে পারবেন। জয়েন করার পর নীচের নম্বরে যোগাযোগ করলেই আমি আপনাকে এই সমস্ত কাজ শিখার জন্য WhatsApp Training group এ জুড়ে দেবো। এটা কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়। আপনার কোনো রকম সন্ধেহ হলে আপনি YouTube এবং Google এ Search করে দেখে নিতে পারেন।*
*ইনকামের টাকা টা আপনি মাসের শেষে ব্যঙ্কে অ্যাকাউন্ট এ ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন,এছারাও এই টাকা টা মোবাইল রিচার্জ করেও খরচ করতে পারবেন জয়েন করার পর যেকোনো রকম সুবিধার জন্য নীচের নম্বরে WhatsApp/Call এ যোগাযোগ করুন।*
*_👉🏿 +918415904781(WhatsApp)
Wednesday, June 21, 2017
ক্বদর রাতের এবাদত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম,
দেখতে দেখতে মাহে রমজানের শেষ দশকে এসে আমরা পৌঁছেছি। আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে রমজান। নাজাতের এ দশকে আমাদের বেশি বেশি ইবাদত করে রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করতে হবে। বিশেষ করে এ মাসে রয়েছে বিশেষ একটি রাত যা হাজার মাসের রাতের চেয়ে উত্তম। এ রাতটি হচ্ছে ক্বদরের রাত। মোমিন-মুসলমানের ক্ষমা পাওয়ার অপূর্ব সুযোগ রয়েছে এ রাতে । ক্বদরের রাত ভাগ্য ও মর্যাদার রাত। আল্লাহর অশেষ কল্যাণের বারি বর্ষিত হয় এ রাতে। এ প্রসঙ্গে রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘আমি এই কোরআনকে এক বরকতময় ও মর্যাদাসম্পন্ন রাতে নাজিল করেছি, কারণ আমি লোকদের সতর্ক করতে চেয়েছিলাম। এই রাতে সকল বিজ্ঞ ও হেকমতপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করা হয়।’ (সূরা দোখান) এ রাতের ইবাদতের সওয়াব ও পুরস্কার অনেক বেশি। এ রাতের এবাদতকে হাজার মাসের চাইতেও উত্তম বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের সূরা ক্বদরে বলেছেন- ‘আমি একে (কুরআন) অবর্তীণ করেছি শবে কদরে। তুমি কি জান কদরের রাত কি? ক্বদরের রাত এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ রাতে আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতাগণ এবং হযরত জিবরাইল (আ.) দুনিয়ার সকল কল্যাণকর জিনিস নিয়ে অবর্তীণ হন এবং সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত সারারাতব্যাপী শান্তি ও রহমত বিদ্যমান থাকে। ক্বদর রাতের ফজিলত সম্পর্কে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- যে ক্বদরের রাতে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে নামাজ পড়ে, তার অতীতের সব সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (বোখারি ও মুসলিম) রমজানের শেষ দশকে নবী করিম (সা.) স্ত্রী-পরিবার সহ সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূল (সা.)ক্বদরের রাত লাভের উদ্দেশ্যে পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন, নিজে সারা রাত জাগতেন এবং পরিবারকেও জাগাতেন।’ (বোখারি ও মুসলিম) রাসূল (সা.) রমজানে শেষ দশকে যত বেশি পরিশ্রম –
করতেন অন্য কখনো করতেন না। হযরত আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- (সা.) রমজানের শেষ দশকে (ইবাদত-বন্দেগীতে) যে পরিমাণ পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না।’ (মুসলিম)
ক্বদর রাতে করণীয় : ক্বদর রাতের মর্যাদা লাভের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ পালন করতে হবে এবং অন্যান্য সুন্নত, নফল ও মোস্তাহাব কাজ আদায় করতে হবে। এর মধ্যে মাগরিব ও এশার নামাজ জামায়াতে আদায় করতে হবে এবং তারাবি, বিতর, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তওবা এস্তগফার ও দোয়া করতে হবে। রাব্বুল আলামিনে কাছে কান্নাকাটি করতে হবে এবং পূর্ণ এখলাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদত করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘যে রমজানে এশার নামাজ জামাআত সহকারে আদায় করে ও সে ক্বদরের রাতের ফজিলত লাভ করে। অপর এক হাদিসে এসেছে, আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- রমজানে এমন এক রাত আছে যার ইবাদত হাজার মাসের এবাদত অপেক্ষা উত্তম। যে এইর রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে অবশ্য বঞ্চিতের কাতারে আছে।’ (নাসাঈ ও মুসনাদ)
ক্বদরের রাতে কি দোয়া পড়া উচিত এ মর্মে হযরত আয়েশা (রা.)-এর এক প্রশ্নের জবাবে রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, এই দোয়া পড়- ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে পছন্দ কর। সুতরাং আমাকে ক্ষমা ও মাফ করে দাও ‘
ক্বদরের রাত নির্ধারণ : এ রাত হবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে। এ সম্পর্কে হযরত আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।’
আমাদের দেশে সাধারণত: মানুষ শুধু রমজানের ২৭ তারিখে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করে এবং ধারণা করে এ রাতেই শবে কদর অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এ ধারণা, সুন্নতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারণ, আয়েশা (রা:)-এর উক্ত বর্ণনা অনুযায়ী শেষ দশকের বেজোড় রাতে তা তালাশ করতে বরা হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন- স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুল ক্বদর দেখানো হল। কিন্তু আমার এক স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ায় আমি তা ভুলে গিয়েছি। অতএব, তোমরা তা রামাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর।’ কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, দু ব্যক্তির বিবাদের কারণে রাসূল (সা.) তা ভুলে গেছেন।
কোনো কোনো বর্ণনায় রমজানের শেষ সাত দিনের বেজড় রাতে শবে ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- হযরত ইবনে উমর (রা:) হতে বর্ণিত যে, কয়েকজন সাহাবি স্বপ্নযোগে রমজানের শেষ সাত রাতে শবে কদর হতে দেখেছেন। সাহাবিদের এ স্বপ্নের কথা জানতে পেরে নবী করিম (সা.) বলেন- ‘আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে যাচ্ছে শেষ সাত রাতে। অতএব কেউ চাইলে শেষ সাত রাতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করতে পারে।’ (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)
কোন কোন সালাফে-সালেহীন ২৭ রাত শবে কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন। সাহাবিদের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রা:), মুআবিয়া, উবাই ইবনে কা’ব (রা:)-এর মতামত থেকে এটাই বোঝা যায়।
কিন্তু রাসূল (সা.) থেকে এভাবে নির্দিষ্টকরে লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার কোনো দলিল বা হাদিস নাই। তাই উপরোক্ত সাহাবিদের কথার ওপর ভিত্তি করে বড় জোর ২৭ রাতে শবে ক্বদর হওয়াকে অধিক সম্ভাবনাময় বলা যেতে পারে। নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সঠিক কথা হলো- শবে ক্বদর কখনো ২১, কখনো ২৩, কখনো ২৫, কখনো ২৭ আবার কখনো ২৯ রাতে হতে পারে।
সুতরাং শুধু ২৭ তারিখ নয় বরং কোন ব্যক্তি যদি রামজানের শেষ দশকের উপরোক্ত পাঁচটি রাত জাগ্রত হয়ে ইবাদত-বন্দেগী করে তবে নিশ্চিতভাবে শবে কদর পাবে। কিন্তু শুধু সাতাইশ রাত জাগলে শবে কদর পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। বরং অন্যান্য রাত বাদ দিয়ে শুধু সাতাইশ রাত উদযাপন করা ঠিক নয়। রাব্বুল আলামিন আমাদের সঠিকভাবে ক্বদরের রাত অনুসন্ধান ও ইবাদত-বন্দেগী করে নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন। -আমিন।
Saturday, June 3, 2017
ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে বাড়ছে নাইজেরিয়ানদের অনুপ্রবেশ
ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে বাড়ছে নাইজেরিয়ানদের অনুপ্রবেশ
আগরতলা ৩রা জুন (এ.এন.ই ): ত্রিপুরার ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে আচমকা নাইজেরিয়ান নাগরিকদের অনুপ্রবেশ লক্ষ্যনীয় ভাবে বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশী এই ধরনের প্রবণতা দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে হচ্ছে বলে সুরক্ষা বাহিনীর আধিকারিদের অভিমত। দক্ষিণ জেলার বিলোনিয়ার শহর এবং এই মহকুমায় অন্যান্য সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় গত ১১ মাসে ১৩ জন নাইজেরিয়ান যুবককে আটক করেছে সুরক্ষা বাহিনী। সম্প্রতি এক নাইজেরিয়ান যুবককে জিজ্ঞেসাবাদ করতে তেলেঙ্গানার দুই পুলিশ আধিকারিক রাজ্যে আসেন। অভিযোগ ঐ নাইজেরিয়ান যুবক সেই রাজ্যে একটি জুয়েলারী দোকান থেকে সারে তিন কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার চুরির সঙ্গে যুক্ত। তবে সে বাংলাদেশ কোন পথে গেল আর আবার রাজ্যে কেন ঢুকলো এই নিয়ে সংশয় রয়েছে। এদিকে নাওচিনামোরে একেনে নাইজেরিয়ান যুবক মামলার বিলোনীয়া থানার পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে নাইজেরিয়ান কিছু কিছু যুবক ভারতে এসে তারা কাপড় এবং চুল ও ড্রাগ ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে। চুল ব্যবসা এখানে স্বর্ণালঙ্কারের চাইতে দামি ব্যবসা। ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঝরেপড়া চুল বিশেষ করে মহিলাদের মাথার চুল অনেক ছেলেমেয়ে স্টিলের বাটি বা সামান্য কিছু দিয়ে সংগ্রহ করে। মহিলারাও মাথা থেকে চিরুনির সাথে ঝরেপড়া চুল জমিয়ে রেখে পরে দিয়ে দিচ্ছে যারা সংগ্রহ করতে আসে তাঁদের কাছে। ফেলে দেওয়ার চাইতে স্টিলের থালা-বাটি যাই পাওয়া যায় মন্দ নয়। এই চুল নাইজেরিয়ানদের কাছে অনেক দামি। তাঁদের চুল কোঁকড়ানো। ভারতের মহিলাদের চুল দেখতে সুন্দর, মসৃণ, লম্বা ইত্যাদি। এদিকে নাইজেরিয়ানরা ভারতে আসার পর অনেককে সময়মতো ফিরে যেতে না পারলে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়। ভারত থেকে এই ভিসা সংগ্রহ করতে অন্তত দুই-তিন মাস লেগে যায়। ধরা পড়লে জেলতো রয়েছেই। পুলিশ জানতে পেরেছে বাংলাদেশ থেকে যে কোনও উপায়ে একদিনের মধ্যে নাকি ভিসা সংগ্রহ করা যায়। রাই সংশ্লিষ্ট নাইজেরিয়ানরা চোরাপথে বাংলাদেশে যেতে আগ্রহী হয়। বিলোনীয়া মহকুমার সীমান্তে এ পর্যন্ত ধৃত বেশিরভাগ নাইজেরিয়ানের ভিসা জাল ধরা পড়েছে। আরও ঘটনা হচ্ছে যে যার মাধ্যমে এসব নাইজেরিয়ানরা কলকাতা, আগরতলা হয়ে বিলোনীয়ায় আসছে তারা ঐ দুষ্টচক্রের কাছে সর্বস্ব হারাচ্ছে। পুলিশ তদন্ত চালিয়েছে কারা নাইজেরিয়ানদের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে পুলিশ তদন্তের জাল গুটিয়ে আনছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে নাইজেরিয়ানদের আনাগোনার দঃ জেলা জেলাসদর সহ মহকুমার সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার প্রশ্নে আরও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত। কারন বেআইনিভাবে বাংলাদেশে যাবার জন্য মহকুমা সীমান্তকে বেছে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
Friday, May 5, 2017
শবে- বরাত-কী-?
শবে বরাত কী?
=================================================
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله-اما بعد
“শব” শব্দটা ফার্সি। যার অর্থ হল-রাত। আর বরআত এটি আরবী শব্দ। মূলত
হল- ﺑﺮﺍﺀﺕ যার অর্থ হল “মুক্তি” তথা জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত হল শবে বরআত। বরাত বলাটা ভুল। কারণ শবে বরাত(ﺑﺮﺍﺕ ) মানে হল বিয়ের রাত। সুতরাং আমরা বলব-শবে বরআত( ﺷﺐ ﺑﺮﺍﺀﺕ )শবে বরআতকে হাদিসের পরিভাষায় বলা হয়েছে “লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান"( ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎن ) তথা শাবানের অর্ধ মাসের রাত্রি।
শবে বরআত হচ্ছে ইসলামের বিশেষ রাত্রিসমূহের মধ্যে একটি রাত্র। যা শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত্রিতে হয়ে থাকে। শবে বরআত-এর অর্থ হচ্ছে ‘মুক্তির রাত’ বা ‘নাজাতের রাত।’
শবে বরআত সম্পর্কে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ বর্ণনা ‘শব’ ফার্সী শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে, রাত। আর বরআত আরবী শব্দ যা উর্দূ, ফার্সী, বাংলা ইত্যাদি সব ভাষাতেই ব্যবহার হয়ে থাকে। যার অর্থ ‘মুক্তি’ ও ‘নাজাত’ ইত্যাদি। কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ভাষা যেহেতু আরবী তাই ফার্সী ‘শব’ শব্দটি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ না থাকাটাই স্বাভাবিক।
স্মর্তব্য যে, কুরআন শরীফ-এর ভাষায় ‘শবে বরআতকে’ ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রজনী’ এবং হাদীছ শরীফ-এর ভাষায় শবে বরআতকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ বা শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে (শবে বরআতে) কুরআন শরীফ নাযিল করেছি অর্থাৎ নাযিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমিই ভয় প্রদর্শনকারী।উক্ত রাত্রিতে আমার পক্ষ থেকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় কাজগুলো ফায়সালা করা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সূরা দুখান-৩, ৪, ৫)
আর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
ﻋﻦ ﺍﻡ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻗﺎﻟﺖ ﻓﻭﺳﻠﻢ ﻟﻴﻠﺔ ﻓﺎﺫﺍ ﻫﻮ ﺑﺎﻟﺒﻘﻴﻊ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻛﻨﺖ ﺗﺨﺎﻓﻴﻦ ﺍﻥ ﻳﺤﻴﻒ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻚ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻗﻠﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻧﻰ ﻇﻨﻨﺖ ﺍﻧﻚ ﺍﺗﻴﺖ ﺑﻌﺾ ﻧﺴﺎﺋﻚ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﻨﺰﻝ ﻟﻴﻠﺔ
ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻻﻛﺜﺮ ﻣﻦ ﻋﺪﺩ ﺷﻌﺮ ﻏﻨﻢ ﻛﻠﺐ
অর্থঃ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহ’র হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার সাথে কোন এক রাত্রিতে রাত্রি যাপন করছিলাম। এক সময় তাঁকে বিছানা মুবারক-এ না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিনি হয়তো অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিস সালামের হুজরা শরীফে তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে তাঁকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম। সেখানে তিনি উম্মতের জন্য আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরীফে ফিরে আসলে তিনিও ফিরে এসে আমাকে বললেন, আপনি কি মনে করেছেন, আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সাথে আমানতের খিয়ানত করেছেন! আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো অপর কোন হুজরা শরীফে তাশরীফ নিয়েছেন।
অতঃপর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর তিনি বনী কালবের মেষের গায়ে যতো পশম রয়েছে তার চেয়ে অধিক সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, রযীন, মিশকাত)
অতএব প্রমাণিত হলো যে, কুরআন শরীফ হাদীছ শরীফেই শবে বরআতের কথা উল্লেখ আছে। তবে কুরআন শরীফে বরআতের রাতকে ‘লাইলাতুম মুবারকাহ’ আর হাদীছ শরীফে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ বলা হয়েছে।
অনেকে বলে থাকে যে, সূরা দুখান-এর উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা শবে ক্বদরকে বুঝানো হয়েছে। কেননা উক্ত আয়াত শরীফে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে, “আমি কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ….” আর কুরআন শরীফ যে ক্বদরের রাত্রিতে নাযিল হয়েছে তা ‘সূরায়ে ক্বদরেও’ উল্লেখ আছে। মূলতঃ যারা উপরোক্ত মন্তব্য করে থাকে তারা ‘সূরা দুখান-এর’ উক্ত আয়াত শরীফ-এর সঠিক ব্যাখ্যা না জানা ও না বুঝার কারণেই করে থাকে। মহান আল্লাহ পাক যে ‘সূরা দুখান’-এ বলেছেন, “আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি।” এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো, “আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালা করেছি।”
আর ‘সূরা ক্বদরে’ যে বলেছেন, “আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি।” এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো, “আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল শুরু করি।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক “লাইলাতুম মুবারকাহ বা শবে বরআতে” কুরআন শরীফ নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন আর শবে ক্বদরে তা নাযিল করা শুরু করেন।এজন্যে মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম শবে বরআতকে ﺍﻟﺘﺠﻮﻳز ﻟﻴﻠﺔ অর্থাৎ ‘ফায়সালার রাত।’ আর শবে ক্বদরকে ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺘﻨﻔﻴﺬ অর্থাৎ ‘জারী করার রাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেননা শবে বরআতে যে সকল বিষয়ের ফায়সালা করা হয় তা ‘সূরা দুখান-এর’ উক্ত আয়াত শরীফেই উল্লেখ আছে। যেমন ইরশাদ হয়েছে, “উক্ত রজনীতে প্রজ্ঞাসম্পন্ন সকল বিষয়ের ফায়সালা করা হয়।” হাদীছ শরীফেও উক্ত আয়াতাংশের সমর্থন পাওয়া যায়। যেমন ইরশাদ হয়েছে, “বরআতের রাত্রিতে ফায়সালা করা হয় কতজন সন্তান আগামী এক বৎসর জন্ম গ্রহণ করবে এবং কতজন সন্তান মৃত্যু বরণ করবে। এ রাত্রিতে বান্দাদের আমলগুলো উপরে উঠানো হয় অর্থাৎ আল্লাহ পাক-উনার দরবারে পেশ করা হয় এবং এ রাত্রিতে বান্দাদের রিযিকের ফায়সালা করা হয়।” (বায়হাক্বী, মিশকাত)
কাজেই, আল্লাহ পাক তিনি যেহেতু বলেছেন যে, বরকতময় রজনীতে সকল কাজের ফায়সালা করা হয় আর তাঁর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও যেহেতু বলেছেন যে, বরআতের রজনীতেই সকল বিষয় যেমন- হায়াত, মউত, রিযিক, আমল ইত্যাদি যা কিছু মানুষের প্রয়োজন হয়ে থাকে তার ফায়সালা করা হয় সেহেতু বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, “সূরা দুখান-এর” উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা শবে বরআতকেই বুঝানো হয়েছে। অতএব এ রাতে নফল নামাজ, সালাতুত তাসবীহ (নামাজ) তাহাজ্জুদ নামাজ কোরআন শরীফ তিলাওয়াত, জিকির,তসবীহ, এস্তেগফার, দরূদ,মীলাদ শরীফের মধ্যমে রাত কাটানো উত্তম।
[দলীলসমূহঃ ১) সূরা দুখান ২) তাফসীরে দুররে মনছূর, ৩) কুরতুবী, ৪) মাযহারী, ৫) তিরমিজী, ৬) ইবনে মাজাহ, ৭) বায়হাকী, ৮) মিশকাত ৯) মিরকাত ১০) আশয়াতুল লুময়াত ১১) ত্বীবি ১২) মুজাহারে হ্বক
=================================================
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله-اما بعد
“শব” শব্দটা ফার্সি। যার অর্থ হল-রাত। আর বরআত এটি আরবী শব্দ। মূলত
হল- ﺑﺮﺍﺀﺕ যার অর্থ হল “মুক্তি” তথা জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত হল শবে বরআত। বরাত বলাটা ভুল। কারণ শবে বরাত(ﺑﺮﺍﺕ ) মানে হল বিয়ের রাত। সুতরাং আমরা বলব-শবে বরআত( ﺷﺐ ﺑﺮﺍﺀﺕ )শবে বরআতকে হাদিসের পরিভাষায় বলা হয়েছে “লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান"( ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎن ) তথা শাবানের অর্ধ মাসের রাত্রি।
শবে বরআত হচ্ছে ইসলামের বিশেষ রাত্রিসমূহের মধ্যে একটি রাত্র। যা শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত্রিতে হয়ে থাকে। শবে বরআত-এর অর্থ হচ্ছে ‘মুক্তির রাত’ বা ‘নাজাতের রাত।’
শবে বরআত সম্পর্কে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ বর্ণনা ‘শব’ ফার্সী শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে, রাত। আর বরআত আরবী শব্দ যা উর্দূ, ফার্সী, বাংলা ইত্যাদি সব ভাষাতেই ব্যবহার হয়ে থাকে। যার অর্থ ‘মুক্তি’ ও ‘নাজাত’ ইত্যাদি। কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ভাষা যেহেতু আরবী তাই ফার্সী ‘শব’ শব্দটি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ না থাকাটাই স্বাভাবিক।
স্মর্তব্য যে, কুরআন শরীফ-এর ভাষায় ‘শবে বরআতকে’ ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রজনী’ এবং হাদীছ শরীফ-এর ভাষায় শবে বরআতকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ বা শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে (শবে বরআতে) কুরআন শরীফ নাযিল করেছি অর্থাৎ নাযিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমিই ভয় প্রদর্শনকারী।উক্ত রাত্রিতে আমার পক্ষ থেকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় কাজগুলো ফায়সালা করা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সূরা দুখান-৩, ৪, ৫)
আর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
ﻋﻦ ﺍﻡ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻗﺎﻟﺖ ﻓﻭﺳﻠﻢ ﻟﻴﻠﺔ ﻓﺎﺫﺍ ﻫﻮ ﺑﺎﻟﺒﻘﻴﻊ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻛﻨﺖ ﺗﺨﺎﻓﻴﻦ ﺍﻥ ﻳﺤﻴﻒ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻚ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻗﻠﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻧﻰ ﻇﻨﻨﺖ ﺍﻧﻚ ﺍﺗﻴﺖ ﺑﻌﺾ ﻧﺴﺎﺋﻚ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﻨﺰﻝ ﻟﻴﻠﺔ
ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻻﻛﺜﺮ ﻣﻦ ﻋﺪﺩ ﺷﻌﺮ ﻏﻨﻢ ﻛﻠﺐ
অর্থঃ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহ’র হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার সাথে কোন এক রাত্রিতে রাত্রি যাপন করছিলাম। এক সময় তাঁকে বিছানা মুবারক-এ না পেয়ে আমি মনে করলাম যে, তিনি হয়তো অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিস সালামের হুজরা শরীফে তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর আমি তালাশ করে তাঁকে জান্নাতুল বাক্বীতে পেলাম। সেখানে তিনি উম্মতের জন্য আল্লাহ পাকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। এ অবস্থা দেখে আমি স্বীয় হুজরা শরীফে ফিরে আসলে তিনিও ফিরে এসে আমাকে বললেন, আপনি কি মনে করেছেন, আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সাথে আমানতের খিয়ানত করেছেন! আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো অপর কোন হুজরা শরীফে তাশরীফ নিয়েছেন।
অতঃপর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি শা’বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর তিনি বনী কালবের মেষের গায়ে যতো পশম রয়েছে তার চেয়ে অধিক সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, রযীন, মিশকাত)
অতএব প্রমাণিত হলো যে, কুরআন শরীফ হাদীছ শরীফেই শবে বরআতের কথা উল্লেখ আছে। তবে কুরআন শরীফে বরআতের রাতকে ‘লাইলাতুম মুবারকাহ’ আর হাদীছ শরীফে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ বলা হয়েছে।
অনেকে বলে থাকে যে, সূরা দুখান-এর উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা শবে ক্বদরকে বুঝানো হয়েছে। কেননা উক্ত আয়াত শরীফে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে, “আমি কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ….” আর কুরআন শরীফ যে ক্বদরের রাত্রিতে নাযিল হয়েছে তা ‘সূরায়ে ক্বদরেও’ উল্লেখ আছে। মূলতঃ যারা উপরোক্ত মন্তব্য করে থাকে তারা ‘সূরা দুখান-এর’ উক্ত আয়াত শরীফ-এর সঠিক ব্যাখ্যা না জানা ও না বুঝার কারণেই করে থাকে। মহান আল্লাহ পাক যে ‘সূরা দুখান’-এ বলেছেন, “আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি।” এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো, “আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালা করেছি।”
আর ‘সূরা ক্বদরে’ যে বলেছেন, “আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি।” এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো, “আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল শুরু করি।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক “লাইলাতুম মুবারকাহ বা শবে বরআতে” কুরআন শরীফ নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন আর শবে ক্বদরে তা নাযিল করা শুরু করেন।এজন্যে মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম শবে বরআতকে ﺍﻟﺘﺠﻮﻳز ﻟﻴﻠﺔ অর্থাৎ ‘ফায়সালার রাত।’ আর শবে ক্বদরকে ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺘﻨﻔﻴﺬ অর্থাৎ ‘জারী করার রাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেননা শবে বরআতে যে সকল বিষয়ের ফায়সালা করা হয় তা ‘সূরা দুখান-এর’ উক্ত আয়াত শরীফেই উল্লেখ আছে। যেমন ইরশাদ হয়েছে, “উক্ত রজনীতে প্রজ্ঞাসম্পন্ন সকল বিষয়ের ফায়সালা করা হয়।” হাদীছ শরীফেও উক্ত আয়াতাংশের সমর্থন পাওয়া যায়। যেমন ইরশাদ হয়েছে, “বরআতের রাত্রিতে ফায়সালা করা হয় কতজন সন্তান আগামী এক বৎসর জন্ম গ্রহণ করবে এবং কতজন সন্তান মৃত্যু বরণ করবে। এ রাত্রিতে বান্দাদের আমলগুলো উপরে উঠানো হয় অর্থাৎ আল্লাহ পাক-উনার দরবারে পেশ করা হয় এবং এ রাত্রিতে বান্দাদের রিযিকের ফায়সালা করা হয়।” (বায়হাক্বী, মিশকাত)
কাজেই, আল্লাহ পাক তিনি যেহেতু বলেছেন যে, বরকতময় রজনীতে সকল কাজের ফায়সালা করা হয় আর তাঁর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও যেহেতু বলেছেন যে, বরআতের রজনীতেই সকল বিষয় যেমন- হায়াত, মউত, রিযিক, আমল ইত্যাদি যা কিছু মানুষের প্রয়োজন হয়ে থাকে তার ফায়সালা করা হয় সেহেতু বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, “সূরা দুখান-এর” উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা শবে বরআতকেই বুঝানো হয়েছে। অতএব এ রাতে নফল নামাজ, সালাতুত তাসবীহ (নামাজ) তাহাজ্জুদ নামাজ কোরআন শরীফ তিলাওয়াত, জিকির,তসবীহ, এস্তেগফার, দরূদ,মীলাদ শরীফের মধ্যমে রাত কাটানো উত্তম।
[দলীলসমূহঃ ১) সূরা দুখান ২) তাফসীরে দুররে মনছূর, ৩) কুরতুবী, ৪) মাযহারী, ৫) তিরমিজী, ৬) ইবনে মাজাহ, ৭) বায়হাকী, ৮) মিশকাত ৯) মিরকাত ১০) আশয়াতুল লুময়াত ১১) ত্বীবি ১২) মুজাহারে হ্বক
সন্ত্রাস নিয়ে মানিক সরকার কে বিজেপির হুঁশিয়ারি
সন্ত্রাস নিয়ে মানিক সরকার কে বিজেপির হুঁশিয়ারি
আগরতলা ৫ই মে (এ.এন.ই ): ত্রিপুরায় ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি আজ আবার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার কে কড়া বার্তা দিয়েছে। একেই সঙ্গে বিজেপি নিরবে সন্ত্রাস সহ্য করবেনা বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
শুক্রবার বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধর এবং রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেব সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সন্ত্রাস ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কে রাজধর্ম পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধর বলেন গত ১লা মে মুখ্যমন্ত্রীর তথাকথিত স্বচ্ছতা আর জনদরদী হবার মুখোশ খসে পরেছে। সম্ভাব্য পরাজয়ের তাড়নায় তিনি তার ক্যাডারদের সন্ত্রাসের জন্য উস্কে দিয়েছেন। ের পরেই গত কয়েকদিনে সারা রাজ্যে বিজেপি কর্মিদের উপর হামলা। ১৪টি ঘটনা ঘটেছে যাতে ২০জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, মানিক সরকার ত্রিপুরায় জনগনের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উঠতে পারেনি। তিনি শুধু পার্টির নেতা। তবে অনেক সন্ত্রাস হয়েছে। বিজেপি কর্মিরা এখন আর চোখ বুঝে এই সব সহ্য করবেনা। সন্ত্রাস বন্ধ না করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। মানিক সরকার কে উচিৎ রাজধর্ম পালন করা।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিজেপি বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মিছিল সংঘটিত করেছে। বিজেপির নেতারা আজ উল্লেখ করেছেন সিপিআইএম কে এখন মনে রাখতে হবে এবার লড়াইটা কংগ্রেসের সঙ্গে নয়, বিজেপির সঙ্গে। ফলে সন্ত্রাস জারি রাখলে চরম পরিনতির শিকার হতে হবে।
আগরতলা ৫ই মে (এ.এন.ই ): ত্রিপুরায় ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি আজ আবার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার কে কড়া বার্তা দিয়েছে। একেই সঙ্গে বিজেপি নিরবে সন্ত্রাস সহ্য করবেনা বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
শুক্রবার বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধর এবং রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেব সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সন্ত্রাস ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কে রাজধর্ম পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধর বলেন গত ১লা মে মুখ্যমন্ত্রীর তথাকথিত স্বচ্ছতা আর জনদরদী হবার মুখোশ খসে পরেছে। সম্ভাব্য পরাজয়ের তাড়নায় তিনি তার ক্যাডারদের সন্ত্রাসের জন্য উস্কে দিয়েছেন। ের পরেই গত কয়েকদিনে সারা রাজ্যে বিজেপি কর্মিদের উপর হামলা। ১৪টি ঘটনা ঘটেছে যাতে ২০জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, মানিক সরকার ত্রিপুরায় জনগনের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উঠতে পারেনি। তিনি শুধু পার্টির নেতা। তবে অনেক সন্ত্রাস হয়েছে। বিজেপি কর্মিরা এখন আর চোখ বুঝে এই সব সহ্য করবেনা। সন্ত্রাস বন্ধ না করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। মানিক সরকার কে উচিৎ রাজধর্ম পালন করা।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিজেপি বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মিছিল সংঘটিত করেছে। বিজেপির নেতারা আজ উল্লেখ করেছেন সিপিআইএম কে এখন মনে রাখতে হবে এবার লড়াইটা কংগ্রেসের সঙ্গে নয়, বিজেপির সঙ্গে। ফলে সন্ত্রাস জারি রাখলে চরম পরিনতির শিকার হতে হবে।
Subscribe to:
Posts (Atom)











